সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে চট্টগ্রাম দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পদুয়া ইউনিয়নের পূর্ব-পশ্চিম খুরুশিয়া গ্রামে জাহাগিরিয়া শাহ ছুফি মমতাজ জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২রা মে) সকাল ৯ টায় পশ্চিম খুরুশিয়াস্থ জাহাগিরিয়া শাহ ছুফি মমতাজ জামে মসজিদে মাওলানা আব্দুল আলিমের ইমামতিতে সেখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে দুই গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষ ঈদের জামায়াতে অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে দরবারের খানেকা শরীফে হালকায়ে জিকির ও সেমা মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিম খুরুশিয়ার সাইরে বাপের টিলা এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এখানে চন্দনাইশস্থ জাঁহাগিরিয়া শাহসুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের অনুসারীরা একদিন আগে ঈদসহ অন্যান্য ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন।

মো. ফরিদ মিয়া নামে দরবারের একজন অনুসারী রাঙ্গুনিয়া নিউজকে বলেন, সারাবিশ্বে একই তারিখে ঈদ ও রোজা পালনে শরীয়তের বিধান মেনে আমরা প্রতিবছর ঈদসহ যাবতীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করে থাকি। এভাবে মমতাজিয়া দরবার ও মির্জাখীল দরবার শরীফের লাখ-কোটি অনুসারী ২৫০ বছর ধরে ঈদ পালন করে আসছে। আমরা এখানে ২০০৫ সাল থেকে পালন করছি।

ইমাম মাওলানা আব্দুল আলিম বলেন, আমরা রমজান মাসের চাঁদ দেখে রোজা থাকি এবং শাওয়াল মাসের ১ তারিখে চাঁদ দেখে ঈদের নামাজ আদায় করি। আমরা অন্য দেশের সাথে মিল রেখে আজ ঈদ উদযাপন করছি।

হানাফী মাযহাবের মতানুযায়ী, পৃথিবীর যে-কোনো প্রান্তে চাঁদ দেখার সংবাদের ভিত্তিতে ঈদ উদযাপন করা যায়; এ যুক্তিতে ঈদ-উল-ফিতর পালন করছি। তবে এ ব্যাপারটা ইমামে আজম আবু হানিফার সময়ে পালন অসম্ভব ছিলো কারণ তখন আরেক শহরের খবর আসতো না। এখন তো বিশ্বের এক প্রান্তের খবর মুহূর্তের মধ্যে পাই। নতুন চাঁদ দেখার খবরও এখন ইন্টারনেট, ফেসবুক ও মিডিয়ার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়। মোবাইলেও সহজে জানা যায়। তাছাড়া জ্যোতির্বিজ্ঞানের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে নতুন চাঁদ উদয়ের আগাম খবর জানা যায়। এখন আর কোন ওজর নেই। তাই ইমাম আবু হানিফার কথা অনুযায়ী অবশ্যই ঈদ পালন করতে হবে। আর চাঁদের উদয়স্থলের ভিন্নতা থাকতে পারেন, তা আমলযোগ্য নয়। তাই আমরা আজ ঈদ পালন করছি।