মিন্টু কান্তি নাথ (রাজস্থলী প্রতিনিধি) রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া যৌথ খামার এলাকায় সনাতন ঋষি আশ্রমে থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা সমাগ্রী বিতরণ করলেন দৈনিক পূর্বকোন পত্রিকার সার্কুলেশন ম্যানেজার ও জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক তাপস কুমার নন্দী।

গত শুক্রবার (১০ জুন) সকালে পরিবার পরিজন নিয়ে আশ্রমে থাকা অনাথ শিশুদের সাথে সাক্ষাৎকার করেন। পড়ে আশ্রমে থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন। পরে দুপুরে মন্দিরের পূজা অর্চনা শেষে অনাথ শিশুদের সাথে অন্ন আস্বাদন করেন ।

শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ কালে এক সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক তাপস নন্দী বলেন.. অনেকটা প্রাঁণের টানে সাপ্তাহিক ছুটিতে ইট কাঠের এই যান্ত্রিক শহরে বসে না থেকে ঘুরতে এলাম বাঙ্গালহালিয়া সনাতন ঋষি আশ্রমে। পাহাড়ের চূড়ায় এই আশ্রম সত্যিই মনোমুগ্ধকর। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়-পর্বত ঘুরে প্রকৃতির ছোঁয়ায় ক্ষণিকের জন্য হলেও ভুলে যাবা যায় সবকিছু। তিন পাহাড়ের আকাশে সেখানে বিশুদ্ধ বায়ু বয়ে চলে। অন্য কোথাও নয়, একমাত্র পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান সনাতন ঋষি আশ্রম ঘুরে মনের তৃপ্তি মেটালাম। দেশের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত রাঙ্গামাটি। আর রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্হিত এই বাঙ্গালহালিয়া। আয়তনের দিক থেকে মনে হয়েছে সর্ববৃহৎ।সনাতন ঋষি আশ্রমে অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী সনাতন ঋষি মহারাজ বলেন,এ অঞ্চলে চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, ত্রিপুরা, মুরং, বোম, খুমি, খেয়াং, চাক্, পাংখোয়া, লুসাই, সুজেসাওতাল, রাখাইন সর্বোপরি বাঙ্গালীসহ মোট ১৪টি জনগোষ্ঠির বসবাস।পানি আর পাহাড়ে ঘেরা উঁচু এই গ্রাম উঁচু পাহাড়ে বসে উপভোগ করা যাবে। ছবির মতো সুন্দর এ পাড়ায় শুধুমাত্র পাহাড়ী আদিবাসীদের বসবাস।এখনে বেশ কিছু সনাতন সম্প্রদায়ের মঠ মন্দির হয়েছে। ক্যাথলিক আর ব্যাপ্টিস্ট- দুটি গির্জাও রয়েছে।মসজিদ আছে পাড়ার শুরু আর শেষ প্রান্তে। রয়েছে ঘন শ্যাওলা লেকের পাড়ে পাহাড়ের ডানায় বসবাস করা পাহাড়ের আদিবাসীদের বসতি আর জুম ফসলের আবাদ। সনাতন ঋষি মহারাজ আরো জানান, এই আশ্রমে থেকে পড়াশোনা করে অনেক পড়ুয়াই সরকারি হাসপাতালের নার্স বা প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতায় যুক্ত। এমনকি কম্পিউটার নিয়ে পড়ে ভাল চাকরিও করছেন কয়েক জন। আশ্রম মাতা জানান, এই অনাথ পড়ুয়াদের কারও বাবা-মা নেই, কারও বাবা রিকশা চালান, কারও মা পরিচারিকার কাজ করেন। এরাই আমার সব কিছু।তিনি বলেন, সেই পড়ুয়ারাই যখন পড়াশোনায় ভাল ফল করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন আমাদের পরিশ্রম সার্থক মনে হবে।বর্তমানে মূল মন্দিরের পাশাপাশি আছে একটি প্রার্থনা মন্দির, আছে অনাথদের থাকার জন্য ঘর। প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যা এখানে কাঁসর ঘন্টা বাজে, প্রার্থনা হয়, গায়ত্রী মায়ের পুজা হয়, অনাথ দেবশিশুদেরকে গীতা, চণ্ডী এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদান করা হয়। বর্তমানে এখানে ১৩৭ জন অনাথ ছেলে মেয়ে আছে, যারা বেশীরভাগই ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের। তাদের ভরণপোষণ, স্থানীয় স্কুলে ভর্তি সহ যাবতীয় দেখভাল করেন সনাতন ঋষি আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ সনাতন ঋষি মহারাজ, যিনি সকলের কাছে ঋষি বাবা নামে সু- পরিচিত।এ সময় উপস্থিত ছিলেন… ঋষির আশ্রম এর প্রতিষ্ঠাতা ও সনাতন ঋষি আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ সনাতন ঋষি মহারাজ,গুরু মাতা,শ্রীমৎ বাবলানন্দ মহারাজ, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ,সাংবাদিকবৃন্দ ,আশ্রমের অনাথ ছেলেমেয়েরা উপস্থিত ছিলেন। সনাতন ঋষি মহারাজ একজন সাধক পুরুষ, যিনি বিগত ৫ দশকের অধিক সময় ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমনকি ভারতবর্ষেও গীতা আলো এবং মানবতার জয়গান মানুষের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে আসছেন। যিনি রচনা করেছেন অসংখ্য ধর্মগ্রন্থ , রচনা করেছেন বহু বৈদিক সংগীত। যাঁর হাজার হাজার ভক্ত শিষ্য রয়েছে বাংলাদেশ সহ ভারতবর্ষে। যিনি একজন মানবতার পুজারি হিসাবে তাঁর কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করে আসছেন।