চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পোমরা ইউনিয়নে কুসুম আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মেয়ের পরিবারের অভিযোগ হত্যা।

শুক্রবার (৫ আগষ্ট) সকালে ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আছুয়া পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর স্বামী মোঃ মিজান প্রবাসী। একি এলাকার ৩নং ওয়ার্ড হাজারীখিলের মৃত মতিউর রহমানের ছোট কন্যা কুসুম। তাদের বিয়ে হয়েছিল দুই বছর, তাদের কোন সন্তান নেই।

নিহত গৃহবধূর বোন রোজী আক্তার বলেন, আমি সকালে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারি আমার বোন আত্মহত্যা করেছে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখি আমার বোন মারা গেছে। আমার বোন দীর্ঘদিন ধরে আমাদেরকে বলে আসছিল তার ভাবির সাথে আমার ফোন আমার বোনের জামাইয়ের সম্পর্ক আছে। কুসুমের স্বামী প্রায় আমার বোনকে নির্যাতন করতো। তবে আমি মনে করছি আমার বোনকে তারা হত্যা করে এই সবকিছু নাটক সাজিয়েছে। রাঙ্গুনিয়া প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন-আমি সকালে ঘটনা কথা শুনতে পেয়ে তাদের বাড়িতে গিয়ে দেখি সকালে কুসুম আক্তারকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরিবার সূত্রে আমি শুনেছি কুসুম তার স্বামীর মোবাইল দেখতে চাইলে তাদের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হয়। পরে কি হয়েছে তারা কিছু জানে না।

পোমরা যুবলীগের সভাপতি মহিউদ্দীন বলেন–কুসুম আমার চাচাতো বোন লাগে। সকালে মেয়ের চাচা আমাকে ফোন করে বলে কুসুমকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আমি দ্রুত ইছাখালী হাসপাতালে এসে দেখি কুসুমের লাশ। পরে জানতে পারি স্বামী সাথে ভাবির পরকীয়া ছিল। অনেক দিন ধরে কুসুমকে নির্যাতন করে আসছিলেন। এ নিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজন ও মেয়ের পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বাকবিতণ্ডা ঝামেলা চলে আসছিল।

কুসুমের স্বামী প্রবাসী মিজান বলেন–রাতে আমার স্ত্রী আমার ব্যবহারের মোবাইল ফোনটি দেখতে চাইলে,আমি দেখতে দেয় নাই। রাতে ঘুম ছিলাম, সকালে দেখি কুসুম ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আছে। কুসুমকে দ্রুত রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার তানজিনা তাবাসসুম বলেন,আনুমানিক এক ঘন্টা পূর্বে মেয়েটি মারা গিয়েছে। আর গলায় বিভিন্ন ধরনের দাগ দেখতে পেয়েছি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যাবে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাবুব মিলকী বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।