জাতীয় সংসদের উপনেতা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

রোববার রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ৮৭ বছর বয়সে সাজেদা চৌধুরীর ইন্তেকালের সংবাদে শোকাহত তথ্যমন্ত্রী প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

ড. হাছান তার শোকবার্তায় বলেন, সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর মৃত্যুতে দেশ এমন একজন রাজনীতিককে হারালো, যিনি পুরোটা জীবন আওয়ামী লীগের জন্য নিবেদিত ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সংকটময় মুহূর্তে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৭৬ সাল থেকে দশ বছর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও ১৯৮৬ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এর আগে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ফরিদপুর ২ আসন থেকে চারবার নির্বাচিত হয়ে ২০০৯ সাল থেকে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনবার জাতীয় সংসদের উপনেতা সাজেদা চৌধুরী স্বাধীনতা উত্তরকালে দেশ গঠনে প্রত্যন্ত এলাকার জনমানুষের নেতা হিসেবেও বড় ভূমিকা রেখেছেন। আমরা তার আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।

সৈয়দ শাহ হামিদ উল্লাহ ও সৈয়দা আছিয়া খাতুনের কন্যা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী ১৯৩৫ সালের ৮ মে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি গ্রামীণ উন্নয়ন ও শিক্ষায় বিশেষ অবদানের জন্য ইউনেস্কো ফেলোশিপ প্রাপ্ত হন। ২০০০ সালে আমেরিকান বায়োগ্রাফিক্যাল ইনস্টিটিউট তাকে বর্ষসেরা নারী (উম্যান অভ দ্য ইয়ার) নির্বাচন করে। সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী সাজেদা চৌধুরী ২০১০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন।