শ্রীকৃষ্ণ মন্দির আয়োজিত রথযাত্রায় ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। যারা এই সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চায় তাদের প্রতিহত করতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার সব সময় রথযাত্রায় সহায়তা করছে। আমাদের এই দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ সবার দেশ। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, হাতে হাত ধরে যুদ্ধ করে আমাদের এই দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে। এই দেশে সব ধর্মের মানুষ ও সব সম্প্রদায়ের সমান অধিকার। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, একটি পক্ষ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নির্যাতন চালাতে চায়। তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চায়। মাঝে মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়াতে চায়। আমাদের এই অপশক্তির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে। রথযাত্রা শান্তি পূর্ণভাবে সফল হোক–এই আমার কামনা। রথযাত্রার এই আনন্দ উল্লাস যেন বছরজুড়ে থাকে। যেভাবে আমাদের পূর্বসূরিরা হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জাতির পিতার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন করেছে, সেভাবে আজকেও আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের কাছে পৌঁছাব। জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সত্যিকারের উন্নত, অসাম্প্রদায়িক ও শান্তিপূর্ণ দেশ গড়তে আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব।

উদ্বোধকের বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, সমাজ থেকে সাম্প্রদায়িক গৌষ্ঠীকে সমূলে উৎপাটন করতে হবে। এই দেশ সবার। এখানে হিন্দুরা মন্দিরে যাবে, মুসলিমরা মসজিদ–মাজারে আর বৌদ্ধরা প্যাগোডায়। আমরা রথের রশিও টানব, আবার নিজের ধর্মও পালন করব। এতে হিন্দু–মুসলমানের কোনো সমস্যা হবে না, ইমান নষ্ট হবে না। যাদের ইমান নেই, যাদের মন দুর্বল, তারা অন্য সম্প্রদায়ের মন্দির দখল করছে। আমরা আজকে প্রতিজ্ঞা করতে চাই, যারা মন্দির দখল করতে চায় তাদের ঘরবাড়ি কিন্তু চট্টগ্রামে আছে। মন্দির দখল করতে গেলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মীদের বলবেন। আমরা তাদের বাড়িঘর চিনি, কখন তাদের কী ওষুধ দিতে হয় সেটি আমরা জানি। আমেরিকার কথায় যারা নাচছে তাদের আমরা দেখিয়ে দেব আওয়ামী লীগ নাচাতেও জানে। আমরা আপনাদের নাচাব, আবার আপনারা নির্বাচনেও আসবেন। নির্বাচনে আসলে দেশের জনগণ আপনাদের খোদা হাফেজ বলে দেবে। বিদেশি শক্তির ছায়ায় এদেশে কেউ ক্ষমতায় আসতে পারবে না। এ দেশের মূল মালিক জনগণ।

রথযাত্রা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ লীলারাজ গৌর দাস ব্রহ্মচারী। আশীর্বাদক ছিলেন ইসকন বাংলাদেশের সদস্য ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। স্বাগত বক্তব্য দেন ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য স্বতন্ত্র গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন, সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) এমএ মাসুদ, গোমদন্ডী যোগাশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী ছত্রেশ্বরানন্দ সরস্বতী, স্বামী অদ্বৈতানন্দ যোগাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী অক্ষরানন্দ পুরী মহারাজ, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিতাই প্রসাদ ঘোষ, কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, মোরশেদ আলম, নীলু নাগ, রুমকি সেনগুপ্ত, নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু, নগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক রাহুল দাশ, বাজুস জেলা শাখার সভাপতি প্রণব সাহা, সনাতনী জাগরণ সংঘের সভাপতি কাঞ্চন আচার্য্য, সনাতন সংগঠনের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট রাজীব দাশ, নগর পূজা পরিষদের সদস্য অর্পণ চক্রবর্তী, উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি লিপটন দেবনাথ লিপু, অজয় দত্ত, রবিন পাল, অভিরাজ নাথ প্রমুখ।

ভোরে মঙ্গল আরতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। রথযাত্রার শোভাযাত্রা প্রবর্তক মোড় থেকে শুরু হয়ে নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সিনেমা প্যালেস প্রাঙ্গণে এসে সমাপ্ত হয়।

তথ্যসুত্র:দৈনিক আজাদী