নিউজ ডেস্ক:চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া স্বনির্ভর ইউনিয়ন যুবলীগ কর্মী মঞ্জুরুল ইসলাম ওরফে টাক্কুইল্যা (৩৮) খুনের মামলার প্রধান আসামী খান মোহাম্মদ মঈন উদ্দিনকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

মঙ্গলবার (১০ অক্টোবর) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (৯ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার একটি খাবার হোটেলের সামনে থেকে তাকে র‍্যাব গ্রেফতার করে বলে জানায় পুলিশ।

মঈন উদ্দিন রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড পাঠানপাড়া এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদ খানের ছেলে।

রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, “গ্রেফতারের পর র‍্যাব সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে আসামীকে রাঙ্গুনিয়া থানায় হস্তান্তর করে। মঙ্গলবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।”

প্রসঙ্গত, গত রবিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলের দিকে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড শান্তি নিকেতন বালু মহাল শ্মশান এলাকায় বন্ধু সেকান্দরসহ বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন মঞ্জুরুল। হঠাৎ মুখোশ পরা কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাদের ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। সেকান্দর পালিয়ে বাঁচলেও মঞ্জুরুল দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত মঞ্জুরুলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মঞ্জুরুলের বাড়ি স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড ব্রহ্মোত্তর এলাকায় ও তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক।

ঘটনার দিন রবিবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে মঞ্জুরুলের স্ত্রী কোহিনুর আকতার বাদী হয়ে খান মোহাম্মদ মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামী করে ৪ জনের বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা করেন।

মামলায় পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড পাঠানপাড়া গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদ খানের ছেলে খান মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন (৪৫), নবীর হোসেন বাচা মিয়ার ছেলে ওবায়দুল কাদের সুমন (৩৮), সৈয়দবাড়ি গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে আল আমিন সাগর (৩০) ও শান্তি নিকেতন গ্রামের ডা. আদেশ দাশের ছেলে শুভজিত দাশকে(৩৪) আসামী করা হয়।

মামলায় বাদী কোহিনুর আকতার উল্লেখ করেছেন, তার স্বামীর সাথে দীর্ঘদিন যাবত আসামীদের বালি মহাল নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। সেই বিরোধের জেরে তার স্বামীকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা ও কয়েকজন যুবলীগ কর্মী বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ কর্মীর দুই গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও বালুর ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জের ধরে একটি পক্ষ তাকে খুন করতে পারে বলে ধারণা।
তবে মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।