“সেদিন জিয়াউর রহমান গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে যা করেছিল তা এদেশকে আবার নব্য পাকিস্তানে পরিণত করে,” বলেন নূরে আলম সিদ্দিকী”।

নিউজ ডেস্ক: সাত নভেম্বরকে ‘কলঙ্কিত মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে চট্টগ্রামের এক সমাবেশ থেকে।

৭ নভেম্বর (মঙ্গলবার) বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর নিউ মার্কেট সংলগ্ন দোস্ত বিল্ডিং চত্বরে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবি জানানো হয়।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বেদারুল আলম চৌধুরী বেদার বলেন, “সেদিনকার কথিত সিপাহী বিদ্রোহে অংশ নেওয়া অধিকাংশ সৈনিকরা ছিল পাকিস্তান প্রত্যাগত এবং তারা কেউই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কোনো ব্যাটালিয়নে ছিল না।

“সুতরাং এটি পরিষ্কার যে, ষড়যন্ত্র এবং জঘন্য হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার জন্যই বিশেষ মহল ৭ নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল। আর বিশেষ মহলের নেপথ্যে কারা ছিল তা জাতির নিকট অত্যন্ত স্পষ্ট। ৭ নভেম্বরকে ‘কলঙ্কিত মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণার দাবি জানাই।”
সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফরাজ খান চৌধুরী বাবুল বলেন, “৭ নভেম্বর প্রথম প্রকাশ্যে হত্যার শিকার হন দুজন সেক্টর কমান্ডার ও একজন সাব-সেক্টর কমান্ডার। আর এই ৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে ২১ জুলাই ১৯৭৬ সালে ফাঁসিতে মৃত্যুবরণ করেন আরেকজন সেক্টর কমান্ডার।

“এছাড়া সেনাবাহিনীর ভেতরে ১৩ জন মুক্তিযোদ্ধা অফিসার হত্যার শিকার হন। স্বাধীনতা যুদ্ধেও কোনো সেক্টর কমান্ডারকে প্রাণ হারাতে হয়নি। অথচ তথাকথিত বিপ্লব ও সংহতি দিবসের মিথ্যা ইতিহাস শুনিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করেছিল বঙ্গবন্ধু হত‍্যাকান্ডের কুশীলবরা।”

সংগঠনের চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “সেদিন জিয়াউর রহমান গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে যা করেছিল তা এদেশকে আবার নব্য পাকিস্তানে পরিণত করে।

“বিশেষত বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর খুনি মোশতাক ও জিয়ার নেতৃত্বে জাতীয় চার নেতাকে জেলের ভেতর হত্যা এবং ১৯৮১ সাল অবধি কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে কথিত বিচারের নামে প্রহসন করে নিষ্ঠুরভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে, গুলি ও গুম করে হত্যার মাধ্যমে দেশের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করা হয়।”
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান সপরিবারের নিহত হওয়ার পর সেনাপ্রধানের দায়িত্বে আসেন জিয়াউর রহমান। এরপর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান হয়, জিয়া হন গৃহবন্দি।

৭ নভেম্বর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সঙ্গে যুক্ত মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে পাল্টা অভ্যুত্থানে আটকাবস্থা থেকে মুক্ত হন জিয়া। এর মধ্য দিয়ে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন, পরে দেশের প্রথম সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেন।

জিয়া মুক্ত হওয়ার পর সামরিক আদালতের কথিত বিচারে তাহেরকে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়। খালেদ মোশাররফ ও তার সঙ্গী মেজর হায়দারসহ অনেককে হত্যা করা হয়, যাদের অধিকাংশই ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।

বিএনপি এই দিনকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’, আওয়ামী লীগ ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ এবং জাসদ ‘সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে পালন করে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাধন চন্দ্র বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা বাদশা মিয়া, ফোরকান উদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার এইচ কে নাথ, আবদুল মালেক খান, এডভোকেট সাইফুন নাহার খুশী, মোহাম্মদ জসীম, নাজিম উদ্দিন, সেলিম রহমান, পলাশ বড়ুয়া, পংকজ রায়, কামাল উদ্দিন, কোহিনুর আকতার, নবী হোসেন সালাউদ্দিন,নুরুল হুদা, ডা. ফজলুল হক সিদ্দিকী, নয়ন মজুমদার, রাজীব চন্দ, দীপন দাশ, শিলা চৌধুরী, আশরাফ রহমান, খোরশেদ আলম, এস এম মাহি।