নিউজ ডেস্ক: সারা দেশে বিরাজমান দাবদাহের কারণে শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিবেচনায় আগামী বৃহস্পতিবার (০২ মে) পর্যন্ত দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যালয় ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টার বন্ধ রাখা হবে।

সোমবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান তুহিন।

তিনি বলেন, সারাদেশে বহমান তীব্র দাবদাহের দরুন শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বিবেচনায় আগামী বৃহস্পতিবার (০২ মে, ২০২৪) পর্যন্ত দেশের সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাণ ট্রাস্টের বিদ্যালয় ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টার বন্ধ থাকবে।

উল্লেখ্য, চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসার ক্লাস আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্ব-প্রণোদিত হয়ে এ আদেশ দেন। হাইকোর্টের নির্দেশনার পরেই প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রণালয় ছুটির বিষয়টি জানালো।

এর আগে গত শনিবার (২৭ এপ্রিল) প্রাথমিক ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশে বলা হয়, চলমান তাপপ্রবাহের কারণে কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর লার্নিং সেন্টারগুলোতে শ্রেণি কার্যক্রম চালুর বিষয়ে নিম্নোক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। রবিবার (২৮ এপ্রিল) থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চলমান থাকবে। এক শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়গুলো প্রতিদিন সকাল ৮ থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলবে। দুই শিফটে পরিচালিত বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম শিফট সকাল ৮টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা এবং দ্বিতীয় শিফট সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলমান থাকবে। প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। তাপপ্রবাহ সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত অ্যাসেম্বলি বন্ধ থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে সোমবার ঢাকা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, খুলনা ও রাজশাহী জেলার সব মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে চলা অতি তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় রেকর্ড হলো বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। সোমবার বিকাল ৩টায় চুয়াডাঙ্গায় ৪৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ বছরে বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

এর আগে চুয়াডাঙ্গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২০১৪ সালের ২১ মে। সে সময় পারদ উঠেছিলো ৪৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আর ২০২১ সালের ১৯ ও ২০ এপ্রিল জেলার তাপমাত্রা উঠেছিলো ৪২ দশমিক ৮ ডিগ্রিতে।

এ বছর এপ্রিলের শুরু থেকেই রাজশাহী বিভাগ দিয়ে তাপপ্রবাহ শুরু হয় এবং পরে তা সারাদেশেই ছড়িয়ে পড়ে এবং কোথাও কোথাও অতি তীব্র তাপপ্রবাহে রূপ নেয়।

দীর্ঘসময় ধরে চলা তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। হিটস্ট্রোকে প্রায় প্রতিদিনই মৃত্যুর খবর আসছে। গরমে নানা রোগেই আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে। বিভিন্ন জায়গায় দেখা দিয়েছে পানি সংকট।