নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ ফুলব্রাইট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের কৃতি সন্তান এবং নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিষয়ের প্রভাষক সালসাবিল করিম চৌধুরী।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কর্তৃক নিযুক্ত ১২ সদস্যের ফুলব্রাইট ফরেন স্কলারশিপ বোর্ড বিশ্বের সকল আবেদনকারীর মধ্য থেকে তাঁকে এই আন্তর্জাতিক শিক্ষাবৃত্তির জন্য নির্বাচিত করে। বিশ্বের ১৬টি দেশের ৭০০-এরও বেশি শিক্ষকের মধ্য থেকে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র ৪৫ জন অসাধারণ শিক্ষক নেতার একজন হিসেবে। তিনি চার মাসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি অফ পেনসিলভানিয়াতে গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নে অংশগ্রহণ করবেন।
সালসাবিল করিম চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন রাঙ্গুনিয়ার সম্ভ্রান্ত “সাহেব বাড়ি” পরিবারে। তাঁর দাদা আলী আহমদ চৌধুরী ছিলেন একজন এম.এল.এ এবং ভাষা আ*ন্দোলনের অন্যতম অংশগ্রহণকারী। জ্যাঠা প্রিন্সিপাল রেজাউল করিম চৌধুরী দেশের অন্যতম শিক্ষাবিদ এবং বহু কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল। ফুফু ড. আখতারুন্নেসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং বাবা আতাউল করিম চৌধুরী ছিলেন ওমর গণি এম.ই.এস কলেজের অর্থনীতির প্রভাষক।
ছোটবেলা থেকেই লেখালেখিতে পারদর্শী সালসাবিল করিম শিক্ষকতাকে বেছে নেন পেশা হিসেবে, বাবার স্বপ্নপূরণের অঙ্গীকারে। ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এ টু আই আয়োজিত মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ করে তিনি সারা দেশে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এই প্রতিযোগিতায় তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল পাহাড়ি ও গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা এবং জেন্ডার বৈষম্য দূরীকরণ।
পরবর্তী বছর, ২০১৮ সালে, তিনি সফলতার গল্প লেখা প্রতিযোগিতায় দেশের সেরা দশ জনের মধ্যে পুরস্কৃত হন। ২০২১ সালে UNESCO ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ভিডিও কনটেন্ট প্রতিযোগিতায় তিনি দ্বিতীয় স্থান এবং ২০২২ সালে একই আয়োজনে “প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপস্কিলিং ও রি-স্কিলিং” বিষয়ক ভিডিও প্রেজেন্টেশন দিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
সম্প্রতি তিনি জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৪-এ চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক (কারিগরি) হিসেবেও নির্বাচিত হন।
ফুলব্রাইট প্রোগ্রাম হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি, যা যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করে। এই প্রোগ্রামে ১৯৪৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৪ লাখেরও বেশি পেশাদার অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্রপ্রধান, নোবেল বিজয়ী, পুলিৎজার পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক ব্যুরো, যারা এই প্রোগ্রামের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন, সালসাবিল করিম চৌধুরীকে তাঁদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি হিসেবে সালসাবিল যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন দেশের পেশাজীবীদের সঙ্গে শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি, অর্থনীতি ও বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি তিনি নিজের স্থানীয় সমাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে নেতৃত্ব, সেবার মানসিকতা ও শ্রেষ্ঠতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।






