নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার স্বনির্ভর ইউনিয়নের শান্তি নিকেতন এলাকায় সংঘটিত মারামারি ও হত্যাচেষ্টা সংক্রান্ত ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, পূর্বের জায়গা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে শান্তি নিকেতন বাজার এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অভিযোগ রয়েছে, মো. মহসিন (৪০) ধারালো অস্ত্র দিয়ে মো. তৈয়ব (৪৮)-কে গুরুতরভাবে আহত করেন। আহতকে প্রথমে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় আহত তৈয়বের স্ত্রী নয়ুম আকতার অভিযোগ করেন, স্বামীকে রক্ষা করতে গেলে তিনিও হামলার শিকার হন এবং শ্লীলতাহানির শিকার হন বলে মামলায় উল্লেখ করেন। পরবর্তীতে তিনি বাদী হয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় মারাত্মক অস্ত্র দ্বারা গুরুতর জখমের মামলা দায়ের করেন।
মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে নাজমা আকতার (৩২) নামে এক নারীকে আটক করে। তিনি স্বনির্ভর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মিয়াজি পাড়ার বাসিন্দা মো. ইদরিস মিয়ার মেয়ে ও মো. মহসিনের স্ত্রী। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি জামিনে মুক্তি লাভ করেন।
এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেন জানান, “মারামারি ও হত্যাচেষ্টা মামলার বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত মহসিন ও তার পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, “আমাদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। সেই বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে মামলা করেছে। আমরা এই ঘটনার সাথে জড়িত নই।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাজমা আকতার বলেন,
“আমরা এই ঘটনার সাথে জড়িত নই। ঘটনার দিন আমার স্বামী এলাকায় ছিল না। আমাদেরকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার চাই।”
স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বলতে চাইলে তারা কথা বলতে রাজি হননি। তাদের ভাষ্য, “এদের বিরুদ্ধে কথা বলে কোনো লাভ হবে না, কারণ তাদের হাত অনেক উপরে।”
স্থানীয়দের মতে, এলাকায় পূর্ব থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ ছিল, যা থেকে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।








