নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালায় মানবসেবা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দাতব্য সংগঠন আবনায়ে কোদালা ওলামা সংস্থা।
গত ৭ জুন (রবিবার) বিকেলে আল-মাদ্রাসাতুল আজিজিয়া কাসেমুল উলুম কোদালার মহাপরিচালক মুফতি আব্দুল কাদের-এর সভাপতিত্বে এবং মাওলানা ওমর ফারুক-এর সঞ্চালনায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নৌকাডুবিতে প্রাণরক্ষাকারী চার যুবককে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে একজন অসুস্থ ব্যক্তি এবং পদুয়া সুখবিলাসে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এক আলেমকে মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মোহাম্মদ এনাম সওদাগর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবনায়ে কোদালা ওলামা সংস্থার উপদেষ্টা মাওলানা আবুল বশর। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সভাপতি মাওলানা সালাহউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মনসুর, অর্থ সম্পাদক হাফেজ মাসুম, সহ-অর্থ সম্পাদক হাফেজ জাহাঙ্গীর, হাফেজ মুহাম্মদসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে কোদালা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সম্প্রতি পদুয়া সুখবিলাস এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এক আলেমের হাতে মানবিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
এসময় সম্প্রতি কোদালা ঘাট সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় সাহসিকতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে একাধিক প্রাণ রক্ষাকারী চার যুবক—মো. রবি উল্লাহ, অলি উল্লাহ, শিমুল ও আব্দুল্লাহ-কে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করা হয়। মানবিকতা, সাহসিকতা এবং ঝুঁকি নিয়ে মানুষের জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসার স্বীকৃতি হিসেবে আবনায়ে কোদালা ওলামা সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
সংগঠনের সভাপতি মাওলানা সালাহউদ্দিন বলেন, “আমাদের এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য হলো মানবসেবা, সমাজকল্যাণ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমরা সকলের কাছে দোয়া কামনা করছি, যাতে ভবিষ্যতেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা কিংবা যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থেকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারি। পাশাপাশি শিক্ষা, মানবিক সহায়তা, সামাজিক সচেতনতা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি অবদান রাখতে চাই। সমাজের সচেতন ও বিত্তবান মানুষ এগিয়ে এলে এ ধরনের সেবামূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।”
সম্মাননা গ্রহণের পর উদ্ধারকারী যুবকরা বলেন, মানুষের জীবন বাঁচাতে পেরে তারা আনন্দিত ও গর্বিত। তারা সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ঘটনা কিংবা যেকোনো বিপদের মুহূর্তে আতঙ্কিত না হয়ে সামর্থ্য অনুযায়ী সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসা উচিত। মানুষের জীবন রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে বড় শক্তি। তারা ভবিষ্যতেও মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
একই সঙ্গে তারা তাদের এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদানের জন্য আবনায়ে কোদালা ওলামা সংস্থার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এ ধরনের স্বীকৃতি সমাজে মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি মানুষকে উৎসাহিত করবে।
বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায়, দুস্থ ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মহৎ দায়িত্ব। মানবিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি এবং মানবকল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এতে সংগঠনের উত্তরোত্তর সফলতা এবং সমাজের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।





