নিউজ ডেস্ক : টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তাণ্ডবে এক রাতেই শেষ হয়ে গেল এক প্রান্তিক মাছচাষির দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, স্বপ্ন ও বিনিয়োগ। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের পূর্ব খুরুশিয়া মাইজপাড়া তিলকঘোনা এলাকায় গত ১১ জুলাই ভোরে টানা বৃষ্টির পানির তোড়ে ভেঙে যায় আবুল হোসেনের প্রায় ১ একর ৩ শতক আয়তনের মাছ চাষের পুকুরের বাঁধ। মুহূর্তেই পুকুরে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পানির স্রোতে ভেসে আশপাশের বিল ও জলাবদ্ধ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পুকুরের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন বিলে নেমে মাছ সংগ্রহ করেন। কেউ প্রায় ১০ কেজি, কেউ ২০ কেজি, আবার কেউ ৩০ কেজি পর্যন্ত মাছ পেয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। অন্যদিকে নিজের চোখের সামনে বছরের পর বছর ধরে লালন করা মাছ ভেসে যেতে দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন খামারি আবুল হোসেন।
ক্ষতিগ্রস্ত আবুল হোসেন জানান, অনেক আশা নিয়ে ঋণ করে তিনি মাছ চাষ শুরু করেছিলেন। এই প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য তিনি প্রায় ৪ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুকুরের বাঁধ ভেঙে সব মাছ ভেসে যাওয়ায় তিনি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তার দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “অনেক কষ্ট করে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলাম। ভেবেছিলাম মাছ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করব এবং পরিবারকে স্বচ্ছলভাবে চালাব। কিন্তু এক রাতের টানা বর্ষণ আমার সব স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। এখন ঋণের কিস্তি কীভাবে দেব, সংসার কীভাবে চালাব—কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছি না। আমি সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছি।”
তিনি সরকার, মৎস্য অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি এবং মানবিক সংগঠনগুলোর প্রতি সহযোগিতার আবেদন জানিয়ে বলেন, “যদি একটু সহযোগিতা পাই, তাহলে আবার নতুন করে মাছ চাষ শুরু করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে পারব।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পদুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পুকুর, কৃষিজমি ও বসতবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষি আবুল হোসেনের পাশে দাঁড়াতে সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।





