নিউজ ডেস্ক: গতকাল সড়ক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সবার আগে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন সিএনজি চালক আবুল হাসান বাদশা। নিজের জীবনে শত কষ্ট ও অভাব থাকলেও অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়াতে এক মুহূর্তও ভাবেননি তিনি।
আবুল হাসান বাদশা চার বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই। ছোটবেলা থেকেই নানা সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বেড়ে ওঠা এই মানুষটি বর্তমানে দৈনিক জমার ভিত্তিতে ভাড়ায় সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সারাদিন পরিশ্রম করে উপার্জন করতে হয়, আবার দিনশেষে সেই আয় থেকে সিএনজি মালিকের জমা পরিশোধ করতে হয়। মাত্র ১০–১১ মাস আগে বিয়েও হয়েছে তার।
এরই মধ্যে কয়েক মাস আগে কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে তার ভাড়ায় চালানো সিএনজিটি চুরি হয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়ে মালিকের ক্ষতিপূরণ দিতে ঋণ করতে হয় তাকে। দীর্ঘদিন বেকারও থাকতে হয়েছে। সেই ঋণের বোঝা এখনো মাথায় নিয়েই আবার নতুন একটি সিএনজি দৈনিক জমায় চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন তিনি।
জীবনের এমন কঠিন বাস্তবতার মাঝেও মানুষের বিপদে এগিয়ে আসার মানসিকতা হারাননি বাদশা। নিজের কষ্টের কথা ভুলে অন্যের কষ্টকে গুরুত্ব দেওয়াই যেন তার স্বভাব। কারও বিপদ দেখলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না—সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
গতকালের দুর্ঘটনাতেও তার সেই মানবিকতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। দুর্ঘটনার পর যখন অনেকেই হতবিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন, তখন আবুল হাসান বাদশা সবার আগে এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধারে সহযোগিতা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ছোটবেলা থেকেই আবুল হাসান বাদশা একজন পরোপকারী, সৎ ও হৃদয়বান মানুষ হিসেবে পরিচিত। নিজের জীবনে অভাব-অনটন থাকলেও অন্যের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে কখনো কার্পণ্য করেননি তিনি।
এমন মানুষের মানবিকতা সমাজে এখনো যে ভালোবাসা ও সহমর্মিতা বেঁচে আছে, তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
আল্লাহ তাআলা আবুল হাসান বাদশাকে সুস্থ, নিরাপদ ও রিজিকে বরকতময় জীবন দান করুন। তার জীবনের সব কষ্ট দূর করে দিন, ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি দিন এবং তাকে নেক হায়াত দান করুন—আমিন।






