নিউজ ডেস্ক: রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নে শ্মশানের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় এক নবজাতক কন্যা শিশুকে উদ্ধারের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মানবিক উদ্যোগে শিশুটির প্রাণ রক্ষা হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

জানা গেছে, গত শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) উপজেলার ৩ নম্বর বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছাগল খাইয়া এলাকার হিন্দুপাড়া শ্মশানসংলগ্ন নির্জন স্থানে রক্তমাখা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় নবজাতকটিকে। স্থানীয় এক শিশু শ্মশানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রথমে শিশুটিকে দেখতে পায়। বিষয়টি তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হলে সে দ্রুত বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সন্ধ্যা রানী নাথকে জানায়।

খবর পেয়ে সন্ধ্যা রানী নাথ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে নবজাতকটিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন। তিনি জানান, শিশুটি তখনও নড়াচড়া করছিল এবং শরীরে রক্ত লেগে ছিল, যা দেখে ধারণা করা হচ্ছে জন্মের কিছুক্ষণ পরই তাকে সেখানে ফেলে যাওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি শিশুটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেন এবং প্রাথমিক সেবার ব্যবস্থা করেন।
পরে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং শিশুটির নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেন।
ইউপি সদস্য শিমুল দে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে নবজাতকটি স্থানীয় বাসিন্দা প্রমোদ দে ও সন্ধ্যা রানী নাথের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তারা অত্যন্ত যত্নসহকারে শিশুটির পরিচর্যা করছেন। তিনি আরও বলেন, “এভাবে একটি নিষ্পাপ নবজাতককে শ্মশানের পাশে ফেলে যাওয়া অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও অমানবিক কাজ। তবে মানবিকতার কারণে শিশুটি আজ বেঁচে আছে।”
এদিকে, চন্দ্রঘোনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাকের আহমেদ জানান, এখনো পর্যন্ত শিশুটির মা-বাবার কোনো পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে শিশুটির অভিভাবক খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এমন ঘটনা এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসন ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত শিশুটির প্রকৃত পরিচয় উদঘাটন করে তাকে যথাযথ সুরক্ষা, চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।








