নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শিলক ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও ভরাট হয়ে যাওয়া শিলক খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) কর্তৃক বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বিএনপি শ্লোগানে নয়, কাজে বিশ্বাসী।” তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে বাস্তবমুখী উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নই বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, খাল খনন কর্মসূচি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের একটি সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে দেশব্যাপী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখা সম্ভব হবে।

হুমাম কাদের চৌধুরী আরো বলেন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে জড়িত। কৃষকদের জীবন ও জীবিকা অনেকাংশেই সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন খালটি ভরাট হয়ে থাকায় কৃষকরা সেচ সংকটে ভুগছিলেন। এই পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে খালে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও জানান, শিলক খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে ঢং খালের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে, যার ফলে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থারও উন্নয়ন ঘটবে। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা হ্রাস পাবে এবং কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা শওকত আলী নুর, অধ্যাপক আজম খান ও অধ্যাপক মহসিন। তারা তাদের বক্তব্যে এলাকার উন্নয়নে এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন, তমাল দাশ,ইন্জিনিয়ার আব্দুর রহিম,বিএনপি নেতা ফজলুল হক,জাহাঙ্গীর আলম চৌধিরী,নবাব মিঞা চেয়ারম্যান,জামশেদ আলী তালুকদার,মোবারক হেসেন চৌধুরী, বানু মেম্বার,শাহজান সিকদার,লেয়াকত আলী,জামাল উদ্দিন,বাবর আলমসহ উত্তর জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা খাল পুনঃখনন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘদিনের সেচ ও জলাবদ্ধতার সমস্যার সমাধান হবে বলে তারা আশাবাদী।
অনুষ্ঠানে শেষে মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করা হয়। এছাড়া উপস্থিত সবার ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক মঙ্গল কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।







