চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার দক্ষিণ পদুয়ায় প্রবাস ফেরত আলমগীর হোসেন (৪০) হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ‘অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হামলা’ হিসেবে প্রচার করা হলেও তদন্তে বেরিয়ে এসেছে পারিবারিক কলহ থেকে সংঘটিত এক মর্মান্তিক হত্যার ঘটনা।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিনের দাম্পত্য বিরোধ ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে নিজ ঘরেই স্ত্রী ও সন্তানের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন এই প্রবাসী।
শুক্রবার (১ মে) বিকেলে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এতে বলা হয়, ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৫) ও ছেলে রবিউল হাসান রাকিব (১৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে উত্তর পদুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ‘ধামা দা’ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আদালতে প্রেরণ করলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, নিহত আলমগীরের সঙ্গে তার প্রথম স্ত্রী রহিমার দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই তাদের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয় এবং ২০০৭ সাল থেকে আলাদা বসবাস করছিলেন তারা। প্রায় ৮-৯ মাস আগে আলমগীর বিদেশ থেকে দেশে ফিরে স্ত্রী ও সন্তানদের পুনরায় একসঙ্গে বসবাসের উদ্যোগ নিলেও বিরোধের অবসান হয়নি।
ওসি আরও জানান, গত ২৮ এপ্রিল রাতে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহের একপর্যায়ে আলমগীর ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন এবং দা দিয়ে ভয় দেখান। এতে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ থেকে স্ত্রী ও ছেলে একযোগে পাল্টা আক্রমণ চালায়। তারা ঘরে থাকা গাছ কাটার ধামা দা দিয়ে আলমগীরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে আসামিরা এলাকায় গুজব ছড়ায় যে, আলমগীর ঘর থেকে বের হওয়ার পর অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে।
পুলিশ জানায়, শুরু থেকেই আসামিদের বক্তব্যে অসংলগ্নতা থাকায় সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক তথ্য ও ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মা ও ছেলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।







