নিউজ ডেস্ক:চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের জয়নগর সিকদার চক এলাকায় গভীর রাতে সংঘটিত এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩৫ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিটের মধ্যে ১৫-১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর সিকদার চক এলাকার আব্দুল কুদ্দুস মাস্টারের বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতরা বসতঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে বাড়ির মালিক মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস, তার স্ত্রী ও মেয়েকে মারধর করে জিম্মি করে ফেলে।
এসময় ডাকাতরা ঘরে থাকা প্রায় ৯ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতির ঘটনায় চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাত দল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় জনতা একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুসের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা নং-০১, তারিখ ৭ জুন ২০২৬, ধারা ৩৯৫/৩৯৭ অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় এজাহারভুক্ত ৫ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৯-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ জানায়, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মো. রকিবুল ইসলাম প্রকাশ রকি (২৬) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে পদুয়া ইউনিয়নের একই এলাকায় সংঘটিত একাধিক অপরাধমূলক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, কিছুদিন আগে একই এলাকায় এক কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা এবং এক প্রবাসীর বাড়িতে দস্যুতার অভিযোগ সামনে আসে। সর্বশেষ এই ডাকাতির ঘটনার পর স্থানীয়দের অনেকেই ধারণা করছেন, একই সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, একের পর এক অপরাধমূলক ঘটনায় এলাকার সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. শাহিন মিয়া জানান, ডাকাতির ঘটনায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।





