নিউজ ডেস্ক:চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পশ্চিম খুরুশিয়া ইউনিয়নের মধ্যম পাড়া, সোলাইমান নগর জামে মসজিদ সংলগ্ন দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি চলাচলের রাস্তা সংস্কারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় এক পক্ষ দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অপরদিকে অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে এলাকাবাসী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোলাইমান নগর জামে মসজিদ সংলগ্ন রিজার্ভ জায়গার ওপর দিয়ে প্রায় ৭০টি পরিবারের মানুষ যুগ যুগ ধরে চলাচল করে আসছেন। সম্প্রতি চলাচলের সুবিধার্থে রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নেন এলাকাবাসী। মসজিদের সভাপতি মো. দানেশ সর্দারের ওপর এ কাজের দায়িত্ব অর্পণ করা হলে তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতায় রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেন।
এ সময় একই এলাকার প্রবাসী নাজেরের পরিবারের পক্ষ থেকে জারিয়া বেগম দাবি করেন, যে জায়গা দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে সেটি তাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তির অংশ। পরে তিনি দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তাদের জমির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এতে বাধা দিলে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান।
অন্যদিকে, মো. দানেশ সর্দার ও স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, এটি কোনো ব্যক্তিগত জমির রাস্তা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের ব্যবহৃত একটি চলাচলের পথ। তারা বলেন, জনস্বার্থে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর আরও দাবি, মসজিদের সভাপতি মো. দানেশ সর্দারের বিরুদ্ধে একটি কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় জারিয়া বেগম এ অভিযোগ করেছেন। তাদের ভাষ্য, সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে নেওয়া উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতেই এ ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগের পেছনে যারা ইন্ধন দিয়েছেন বলে তারা দাবি করছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার এসআই ইসমাইল বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এটি একটি পুরোনো চলাচলের রাস্তা নিয়ে নাজেরের পরিবারের সঙ্গে এলাকাবাসীর বিরোধ। বিষয়টি নিয়ে থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই বৈঠকে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত চলাচলের পথটি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি, যদি অভিযোগটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হয়, তবে এর সঙ্গে জড়িত ইন্ধনদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
অন্যদিকে, অভিযোগকারী জারিয়া বেগম তার লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট জায়গাটি তাদের মালিকানাধীন সম্পত্তির অংশ। বিষয়টি বর্তমানে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।





