নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে দুইটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক, দুইটি তাজা ১২ বোর কার্তুজ ও দুইটি খালি কার্তুজসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার মামলা নং-০৫, তারিখ ২১ জুলাই ২০২৬, The Arms Act, 1878 (সংশোধনী-২০০২) এর ১৯এ/১৯(এফ) ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. আরিফ (২৬), মো. মনির হোসেন (২৩) ও কিশোর রাকিব (১৫)। তাদের সবার বাড়ি দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৮ নম্বর সরফভাটা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০ জুলাই বিকেলে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার এসআই (নিঃ) মো. শাহিন মিয়ার নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদকবিরোধী অভিযান ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের উদ্দেশ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, সরফভাটা ইউনিয়নের সৈয়দুরখীল এলাকায় ইউসুফের চায়ের দোকানের পেছনে কয়েকজন অস্ত্রধারী অবস্থান করছে।
সংবাদের ভিত্তিতে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে অভিযান চালালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজনরা পালানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তিনজনকে আটক করা হয়।
তল্লাশিকালে আরিফের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক, মনির হোসেনের কাছ থেকে আরও একটি দেশীয় তৈরি একনলা বন্দুক এবং রাকিবের কাছ থেকে দুইটি তাজা ১২ বোর কার্তুজ ও দুইটি ব্যবহৃত (খালি) ১২ বোর কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে এসব আলামত জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা পরস্পরের যোগসাজশে পাহাড়ি এলাকা থেকে অবৈধ অস্ত্র সংগ্রহ করে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার উদ্দেশ্যে নিজেদের কাছে রেখেছিল বলে স্বীকার করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।





