নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার পশ্চিম খুরুশিয়ায় সামাজিক কবরস্থানে মরদেহ দাফনের কবর খননের বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এক পক্ষ দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করলেও অপর পক্ষের দাবি, কবরস্থানের নির্ধারিত নিয়ম মেনেই দাফনের বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল।
গত বৃহস্পতিবার (১০সেপ্টেম্বর) দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন পশ্চিম খুরুশিয়ার মো. আব্দুর ছবুর (৩৭)।
অভিযোগে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন—পূর্ব খুরুশিয়ার মাইজপাড়া এলাকার ফজল করিম (৫৫), করিম সওদাগর (৬২), হাফেজ বদি আলম (৩৫) ও বাছা সওদাগর (৬০)।
অভিযোগকারী আব্দুর ছবুরের দাবি, তাঁর বাবা গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মারা যান। পরে দাফনের প্রস্তুতি নিয়ে সামাজিক গাইনবাড়ির সর্বজনীন কবরস্থানে কবর তৈরির কাজ শুরু করা হয়। এ সময় অভিযুক্তরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁর বাবাকে দাফন করার জন্য কবর খুড়তে ও ওই কবরস্থানে দাফনে আপত্তি জানান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর আরও দাবি, দাফনের কারণ জানতে চাইলে মাইজপাড়া এলাকার লোকজন ছাড়া অন্য এলাকার ব্যক্তিকে ওই কবরস্থানে দাফনের বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। এ সময় দাফন না করার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য: অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে সমাজ নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এর ধারাবাহিকতায় গাইনবাড়ি সমাজ ও মাইজপাড়ায় দুটি পৃথক সমাজ গঠিত হয়েছে। গাইনবাড়ি সমাজের আলাদা কবরস্থান রয়েছে।
তাদের দাবি, মাইজপাড়া সমাজের দুটি সমাজের কবরস্থান হিসেবে মাজারসংলগ্ন কবরস্থানটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কবরস্থানের নিরাপত্তা, পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষার জন্য মাইজপাড়া সমাজের উদ্যোগে কবরস্থানটি সংস্কার করে সীমানা দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্তদের ভাষ্য, গত বৃহস্পতিবার গাইনবাড়ি সমাজের একজন মারা যাওয়ার পর তাঁকে মাইজপাড়া সমাজের কবরস্থানে দাফনের জন্য কবর খোড়ার জন্য আসলে তারা কবরস্থানের নির্ধারিত সিরিয়াল অনুযায়ী কবর খননের কথা বলেন। কিন্তু অভিযোগকারীরা তা না মেনে তাঁদের পূর্বের আত্মীয়ের কবরের পাশে মরদেহ দাফন করতে কবর খনন করতে চান।
এ বিষয়ে মাইজপাড়া সমাজ সম্মতি না দেওয়ায় সেখানে কবর খনন করতে দেওয়া হয়নি। পরে মরদেহটি গাইনবাড়ি সমাজের কবরস্থানে দাফন করা হয় বলে জানান তারা।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্য:এদিকে স্থানীয় কয়েকজন নেতৃবৃন্দ বলেন, কবরস্থানটি সরকারি রিজার্ভ জায়গায় অবস্থিত বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। এ ধরনের জায়গায় কোনো সমাজ বা ব্যক্তি কোনো মৃত ব্যক্তির মরদেহ দাফনে বাধা প্রদান করা সমীচীন নয় বলে তারা মনে করেন।
তারা আরও বলেন, কবরস্থানটি কার মালিকানাধীন বা কীভাবে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত—এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র ও আইন অনুযায়ী নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কবরস্থানের ব্যবহার নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা সামাজিকভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে প্রশাসন ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মতে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে কবরস্থানের প্রকৃত মালিকানা, ব্যবহারবিধি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অধিকার নির্ধারণ করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরোধ এড়ানো সম্ভব হবে।
পুলিশের বক্তব্য: এ বিষয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ জানায়, ঘটনাটি নিয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে তাদের বক্তব্য শোনা হবে। অভিযোগ ও উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই-বাছাই করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে কবরস্থানটি সরকারি রিজার্ভ জায়গা কি না এবং সেখানে দাফনের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট আইন, বিধি বা ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়ম রয়েছে কি না—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নথিপত্র ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
প্রকৃত ঘটনা ও দায়-দায়িত্ব তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রাঙ্গুনিয়া নিউজ মনে করে, এ ধরনের বিষয়ে কোনো পক্ষকে দোষারোপ না করে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা, প্রকৃত তথ্য যাচাই করা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও ভূমি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কবরস্থানের অবস্থান ও ব্যবহারবিধি স্পষ্ট করা জরুরি।
মৃত ব্যক্তির দাফনকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের বিরোধ, উত্তেজনা বা সামাজিক বিভাজন তৈরি না হয়—এটাই সবার প্রত্যাশা। বিষয়টির একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়সংগত ও আইনসম্মত সমাধান হোক—রাঙ্গুনিয়া নিউজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করছে।





