নিউজ ডেস্ক: কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের এক হতভাগ্য কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক এই তরুণীকে ইসলাম ধর্ম থেকে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তর করার পর কোনো বৈধ বিবাহ ছাড়াই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সংসার করার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই কিশোরীর জন্ম ৪ আগস্ট ২০১০ সালে। সেই হিসেবে বর্তমানে তার বয়স ১৫ বছরের কিছু বেশি। তিনি ঈদগড় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মরহুম মোহাম্মদ শাহ আলমের মেয়ে। গত ২৮ জুন চট্টগ্রামের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয়ে হাজির হয়ে তিনি ধর্ম পরিবর্তনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
তরুণীর দাবি, প্রায় তিন মাস আগেই উত্তর রাঙ্গুনিয়ার এক হিন্দু যুবকের সাথে তিনি মন্দিরে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তবে ১৭ জুলাই স্থানীয় জনতা তাকে বিয়ের কাগজপত্র দেখাতে বললে তিনি কোনো বৈধ নথিপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অপ্রাপ্তবয়স্ক ওই মেয়েকে বিয়ের কোনো প্রমাণ ছাড়াই কৌশলে ঘরছাড়া করা হয়েছে, যা নিয়ে জনতা ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে।
ভুক্তভোগী কিশোরীকে প্রলোভন দেখিয়ে এবং তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ধর্মান্তর ও বিপথে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ঘটনার দিন স্থানীয়রা যখন অভিযুক্ত যুবকের বাড়ি ঘেরাও করতে যান, তখন সে কৌশলে পালিয়ে যায়। বিয়ের কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকা এবং ঘটনার পরপরই স্বামীর এমন পলায়ন বিষয়টি পুরো ঘটনাকে সন্দেহজনক করে তুলেছে।
আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের নিচে কারো বিয়ে বা ধর্মান্তরকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এটি কেবল ধর্মান্তরের বিষয় নয়, বরং এটি একটি নাবালিকা মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে পাচার বা নিগ্রহের শামিল। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত হিন্দু যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং কিশোরীটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে রামু ও ঈদগড় এলাকায় তীব্র উত্তজনা বিরাজ করছে। অভিভাবক মহল এমন ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এবং প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।





