নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় নিখোঁজের ৬ দিন পর মো. মফিজ (১৫) নামের এক কিশোরের মাটিচাপা দেওয়া লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার (২২ মে) সকালে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকার একটি চিতাখোলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বিষয়টিকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে ধারণা করছে।
ঘটনার তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত কিশোরের মা রুবি আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে সন্ধ্যা ৭টার দিকে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার দুধপুকুরিয়া (পূর্ব পাহাড়) গ্রামের মো. আবু মুছার ছেলে মো. মফিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে তার পিতা আবু মুছা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করেন।
আজ ২২ মে সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন দুধপুকুরিয়া এলাকার পূর্ব পাহাড়স্থ বৌদ্ধ ধর্মীয় শ্মশানের চিতাখোলার ভেতর নতুন মাটি খোঁড়া একটি অংশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হিলাল উদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাটি খুঁড়ে নিখোঁজ মফিজের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে মফিজের পিতা ও দাদা মৃতদেহটি শনাক্ত করেন।
আত্মহত্যার সাথে রহস্যজনক যোগসূত্র পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনার পেছনে একটি গভীর রহস্যের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত ২১ মে (বৃহস্পতিবার) একই এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে মাহবুব আলম ওরফে মাকু আলম (৩৮) নামের এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন। পুলিশ ধারণা করছে, মাহবুব আলমের এই আত্মহত্যার সাথে কিশোর মফিজ হত্যাকাণ্ডের একটি নিবিড় যোগসূত্র থাকতে পারে।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হিলাল উদ্দীন আহমেদ জানান: ঘটনাটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। গতকাল ঘটে যাওয়া মাহবুব আলমের আত্মহত্যার সাথে এই হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভিকটিমের মাতাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ব্যাপক তদন্তের পর ঘটনার আসল রহস্য উন্মোচিত হবে বলে এই কথা জানান। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।







