নিউজ ডেস্ক: ওমানে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত চার সহোদরকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পাশাপাশি চারটি কবরস্থানে দাফন করা হবে। একই সারিতে ভাইদের শেষ ঠিকানা হওয়ায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
নিহতরা হলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বন্দারাজারপাড়া এলাকার চার ভাই রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম। তাদের মরদেহ মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে দেশে পৌঁছায়। পরে স্বজনরা মরদেহ গ্রহণ করে বুধবার সকালে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন।
মরদেহ আনার পর বুধবার সকাল ১১টায় হোছনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি চার ভাইকে দাফন করা হয়। দাফনের জন্য আগে থেকেই চারটি কবর পাশাপাশি প্রস্তুত করা হয়েছিল।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হতে তারা প্রস্তুত ছিলেন না। রাতভর আশপাশের কয়েকটি এলাকার লোকজন কবর খোঁড়ার কাজে অংশ নেন। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকা থেকে লাশ রাখার খাটিয়াও এনে রাখা হয়।
ঢাকা থেকে মরদেহ আনার কাজে থাকা স্থানীয় যুবক ইয়াকুব জানান, দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো আনা হয়।
এদিকে পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মা এখনো পুরো ঘটনা জানেন না। অসুস্থতার কারণে তাকে চার সন্তানের মৃত্যুসংবাদ একসঙ্গে জানানো হয়নি। তিনি এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর খবর জানেন এবং সেই শোকেই তিনি স্তব্ধ হয়ে আছেন। স্বজনরা বলছেন, চার সন্তানের মৃত্যুর বাস্তবতা তিনি কীভাবে সহ্য করবেন তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে ওমানে একটি গাড়ির এসির গ্যাসজনিত দুর্ঘটনায় এই চার সহোদরের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই পুরো এলাকায় শোকের মাতম চলছে। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।






